বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০০৯






বৃন্দাবনের বিশ্রাম বট
ভাগবত অনুসারে বৃন্দাবনের রাজপুর ঘাটে ভাগবান শ্রীকৃষ্ণ রাধারানীকে নৌকার মাঝি সেজে কানের সোনার বদলে যমুনা পার করেছিলেন| রাধা-কৃষ্ণ দুই জনাই ছিলেন রাজার মেয়ে| তাই এই ঘাটের নাম রাজপুর ঘাট| পরবর্তী কালে শ্রী শ্রী মহাপ্রভু বৃন্দাবন পরিক্রমাকালে ওই ঘাটের একটি বট গাছের তলায় বিশ্রাম গ্রহণ করেছিলেন এবং রাধা-কৃষ্ণ সময়ের লীলা প্রকট করেছিলেন| জায়গাটির নাম তাই পরবর্তী কালে বিশ্রাম-বট নামে পরিচিত হয়েছে| মহাপ্রভুর বৃন্দাবন পরিক্রমার কিছু দিনের মধ্যেই নবদ্বীপ থেকে শ্রীল মুরারী গুপ্ত প্রভু বৃন্দাবন দর্শন করতে উদ্দ্যোগী হলে তাঁর সেবিত জগন্নাথ দেব তাঁকে অনুরোধ করেন যে শ্রীল মুরারী গুপ্ত প্রভু বৃন্দাবন চলে গেলে তাঁকে ভোগ-রাগ কে নিবেদন করবে, শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব তাঁকেও সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবন যাবার অনুরোধ করলে তাঁর একান্ত অনুগত ভক্ত তাঁকে এবং সঙ্গে তাঁর শঙ্খ, চর্ক্র, গদা, পদ্ম চিহ্ন যুক্ত শালিগ্রাম নারায়ণ-শিলা ও সুদর্শন-চক্র খোদিত শালিগ্রাম নারায়ন-শিলা দুটিকে নিয়ে বৃন্দাবনের পথে দিলেন পাড়ি, বৃন্দাবনে এসে সেই রাজপুর ঘাটের বট বৃক্ষের সন্নিকটে রাখলেন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব কে এবং নারায়ন শিলা দুটিকে স্থাপন করে প্রতিদিনের ভোগ-রাগ দিতে লাগলেন আর সঙ্গে সঙ্গে বৃন্দাবন ও ব্রজ দর্শন করতে লাগলেন| বেশ কয়েক মাসের ব্রজ দর্শন সমাপ্ত করে পুনরায় নবদ্বীপ ফেরার পরিকল্পনা করলেন শ্রীপাদ মুরারী গুপ্ত প্রভু, যাই হোক ফেরার সব প্রস্তুতির শেষে তাঁর আরাধ্য শালিগ্রাম নারায়ন-শিলা দুটিকে যত্ন সহকারে বুকের মধ্যে নিয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবকে সিংহাসন ওঠাতে গেলে দেখলেন জগন্নাথ আর উঠছেন না| উল্টে তাঁর আরাধ্য দেব তাঁকে আদেশ দিলেন এই যে এটা তার নিজস্ব স্থান, তিনি এখানেই থাকবেন, আর নবদ্বীপ ফিরবেন না, কারণ কৃষ্ণ লীলাতে এখানেই তিনি রাধারানীর কানের সোনার দুল নিয়েছিলেন| শ্রীপাদ মুরারী গুপ্ত প্রভু আরও লক্ষ্য করলেন জগন্নাথ দেবের কান দেখা দিয়েছে, অগত্যা ভক্ত মুরারী গুপ্ত সেই কানে সোনার দুল পরিয়ে শ্রীল জীব গোস্বামীর উপর জগন্নাথের ও তাঁর সেই শালিগ্রাম নারায়ন-শিলা দুটির সেবা-পূজার দায়িত্ব দিয়ে মনের দুখে ফিরে গেলেন| সারা বিশ্বে একমাত্র এখানকার জগন্নাথ দেবের কানের দুল দেখা যায়| এখনো এই মন্দিরে জগন্নাথ দেবের সহিত সেই শালিগ্রাম শিলা দুটিকে দেখা যায়|

কোন মন্তব্য নেই: